দহন সিনেমার গল্প যেখান থেকে নেয়া

মাইম আর্ট এর প্রধান নিথর মাহবুব জানিয়েছেন সিনেমাটির যে ট্রেইলার ছাড়া হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে এই গল্প তার লিখা মাইম আর্ট এর প্রযোজনা ইউ টার্ণ থেকে নেয়া হয়েছে। 


মাইম আর্ট এর ‘ইউ টার্ন’ এর পাণ্ডুলিপি যেখান থেকে দহন সিনেমার গল্প চুরি করেছে

মাইম আর্ট এর ‘ইউ টার্ন’ এর পাণ্ডুলিপি যেখান থেকে দহন সিনেমার গল্প চুরি করেছে


দৃশ্য-১ 
স্থানঃ পার্ক এ গাছতলা। 
সময়ঃ দিন
চরিত্রঃ প্রেমিক, প্রেমিকা 
প্রেমিকা একটি গাছ তলায় অপেক্ষা করছে তার বেকার প্রেমিকের জন্য। কাঁধে তার ভ্যানিটি ব্যাগ ঝুলানো। প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা সইছে না তার। হঠাৎ প্রেমিক চলে আসে। প্রেমিক বেঞ্চে বসে অভিমান করে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। প্রেমিক আবার সামনে যায়। প্রেমিকা অভিমান করে তাকায় না তার দিকে। প্রেমিক দূরে একটা ফুলের মালা বিক্রেতাকে কাছে ডাকে। তার কাছ থেকে একটা বেলি ফুলের মালা কিনে প্রেমিকার গলায় পরিয়ে দেয়। এবং নানান কৌশলে প্রেমিকার মান ভাঙ্গায়। প্রেমিক পকেট থেকে টাকা বের করে মালা বিক্রেতাকে দিকে বিদায় করে। প্রেমিকা প্রেমিককে খাওয়াতে বাড়ি থেকে আনা খাবার আর পানির বোতল বের করে ব্যাগ থেকে। এমনসময় প্রেমিকের ফোনে রিং হয়। প্রেমিক ফোন দেখে চিন্তিত হয়। তার চেহারা অন্যরকম হয়ে যায়। কলটা কেটে দিয়ে আবার প্রেমিকার প্রতি মনযোগী হয়। খাওয়া শুরু করে। প্রেমিকা নিজের হাতে খাবার প্রেমিকের মুখে তুলে দেয়। আবার প্রেমিকের ফোন বেজে ওঠে। প্রেমিক কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকে। আবার কেটে দেয়। প্রেমিকা জিজ্ঞেস করে কে ফোন করেছে। তার আর বেকার থাকতে হবে না, টাকা রোজগারের একটা উপায় তৈরি হয়েছে। শিঘ্রই তারা বিয়ে করবে। আর এই কাজের জন্যেই এক জায়গায় যেতে হবে। প্রেমিক আবার খাওয়া শুরু করে। 
আবার কল আসে। এবার কল রিসিভ করে অপর প্রান্তের লোককে সে বলে- আসছি। প্রেমিক পানি না খেয়েই প্রেমিকার কাছ থেকে বিদায় নেয়। প্রেমিকা পেছন থেকে হাত ইশারা করে ডাকে। কিন্তু সে না শুনে চলে যেতে থাকে। প্রেমিকার আবার অভিমান হয়।

প্রেমিকার অভিমান -মাইম আর্ট 

দৃশ্য- ২
স্থানঃ রাস্তার মোড়
সময়ঃ দিন
চরিত্রঃ প্রেমিকও তার বন্ধু 
বন্ধু বাইক নিয়ে অপেক্ষা করছে প্রেমিক যুবকের জন্য। যুবক চলে আসে। এলে তাকে জিজ্ঞেস করে এতক্ষণ কোথায় ছিল। তাড়াতাড়ি উঠতে বলে বাইকের পিছনে। তারপর বাইকে উঠে তার দুজন চলে যায়।

দৃশ্য- ৩ 
স্থানঃ নেতার বাড়ি 
সময়ঃ দিন
চরিত্রঃ নেতা, চামচা ও দুই বন্ধু
নেতা সবাইকে নিয়ে মিটিং করছে। বন্ধু প্রেমিককে নিয়ে এসে দরজায় দাঁড়ালে নেতা ইশারায় তাদের কাছে ডাকে। বন্ধুটি নেতার কাছে গিয়ে তার সঙ্গে হ্যান্ডশেইক করে এবং প্রেমিকবন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে সে তাদের সঙ্গে কাজ করবে। প্রথম পরিচয়েই নেতা তাকে পরীক্ষা স্বরূপ কাজ দেয়। এবং কাজের জন্য তাকে কিছু অগ্রীম পেমেন্টও করে। কাজ শেষে মোটা অংকের টাকা দেয়ার আশ্বাষ দেন নেতা। এরপর দুই বন্ধু সেখান থেকে বেরিয়ে আসে।

নেতার সাথে বন্ধুকে পরিচয় করানো 

দৃশ্য- ৪
স্থানঃ পেট্রোল পাম্প 
সময়ঃ বিকাল বেলা
দুই বন্ধু বোতল নিয়ে যায় পেট্রোল কিনতে। দেশের পরিস্থিতি ভাল নয় বলে পাম্পের দায়িত্বে থাকা লোকটি তাদের কাছে পেট্রোল বিক্রি করতে রাজি হয়না। তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়। এবার বাইক নিয়ে আরেকটি পেট্রোলপাম্পে যায় তারা। বাইকের টাঙ্কি পরিপূর্ণ করে পেট্রোল নিয়ে ফিরে আসে বাসায়।

পেট্রোল কেনা

দৃশ্য- ৫
স্থানঃ বন্ধুর বাসা 
সময়ঃ দিন
বাসায় পৌঁছে বোতল বের আনে বন্ধুটি। পাইপ দিয়ে বাইকের টাঙ্কি থেকে পেট্রোল বোতলে নেয়। এরপর সেগুলো দিয়ে দজনে মিলে পেট্রোল বোমা তৈরি করে। বোমা ব্যাগে ভরে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে তারা। 

পেট্রোল বোমা বানাচ্ছে দুই বন্ধু 

দৃশ্য- ৬ 
স্থানঃ পার্ক 
সময়ঃ দিন 
চরিত্রঃ গাঁজাখোর দুই যুবক ও দুই বন্ধু 
দুই যুবক বসে এক স্থানে গাঁজা খাচ্ছে। দুই বন্ধু তাদের কাছে যায়। দুই বন্ধু তাদের কাছে টেনে নিয়ে ফিসফিস করে পরিকল্পনার কথা জানায়। গাঁজাখোর দুজন প্রথমে রাজি হয় না। এরপর দুই বন্ধু টাকা দেখায় ওদের। থাবা দিয়ে নিতে চায় একজন। প্রেমিকবন্ধুটি বলে আগে বাসে বোমা মেরে আসো তারপর দেব। ওরা অগ্র্রিম চাইলে কিছু টাকা ওদের হাতে দিয়ে বাকিটা পরে দেবে বলে। ওরা খুশি মনে পেট্রোল বোমার ব্যাগ নিয়ে চলে যায়।

গাঁজাখোর দুই যুবক

দৃশ্য- ৭ 
স্থানঃ উম্মুক্ত হকার মার্কেট 
সময়ঃ সন্ধ্যা 
চরিত্রঃ গাঁজাখোর দুজন, প্রেমিকা ও অন্যান্য 
গাঁজাখোর দুজন ফুটপাতে দোকানদার সেজে কাপড় বিক্রয় করছে। আর কখন বাসে বোমা মারবে সেই সুযোগ খুঁজছে। এদিকে ওই প্রেমিকা কাকতালীয়ভাবে ওখানে কাপড় কিনতে আসে। পছন্দ হয় না বলে সে রাস্তায় গিয়ে বাসের জন্য দাঁড়ায়। বাস যাত্রী নেবার জন্য এসে রাস্তার পাশে দাঁড়ায়। প্রেমিকা বাসে ওঠে। বাস রওনা হয়। গাঁজাখোর দুজন দ্রুত ব্যাগ থেকে বোতল আর পকেট থেকে দিয়াশলাই বের করে বোতলের মাথায় সলতায় আগুন লাগিয়ে তা ছুঁড়ে মারে বাসের ভেতরে। দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। সঙ্গে সঙ্গে গোটা বাসে আগুন লেগে যায়। সবার সঙ্গে দগ্ধ হয় বাসে থাকা প্রেমিকের সেই প্রেমিকাটিও।

বাসে দগ্ধ প্রেমিকা 

দৃশ্য- ৮ 
স্থানঃ হাসপাতাল 
সময়ঃ দিন
চরিত্রঃ দগ্ধ প্রেমিকা, প্রেমিক, ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্যরা
আগুনে দগ্ধ প্রেমিকাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। ডাক্তাররা তার চিকিৎসা করছে। এই দিকে বাসে আগুনের ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ততক্ষনে প্রেমিক জানতে পারে যে গাড়িতে পেট্রোল বোমা মারা হয়েছিল সেই গাড়িতেই ছিল তার ভালবাসার মানুষটি। আগুনে দগ্ধ হয়েছে সে। পাগলের মতো সে হাসপাতালে ছুটে আসে। প্রেমিকাকের দগ্ধ অবস্থা দেখে সে চিৎকার করতে থাকে আর সবাইকে বলতে থাকে- আমি তাকে আগুনে পুড়িয়েছি। এর জন্য আমি দায়ী। সবাই ভাবে সে আবেগতাড়িত হয়ে এসব বলছে। হাসপাতালে কর্তব্যরত লোকেরা ওই অবস্থায় তাকে তার প্রেমিকার কাছে যেতে দেয় না। তখন সে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা পুলিশের কাছে গিয়ে তাকে এরেস্ট করতে বলে। কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করেনা। সবাই ভাবে সে একটা পাগল।

হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে প্রেমিকাকে 

দৃশ্য- ৯ 
স্থানঃ নেতার বাড়ি 
সময়ঃ রাত 
চরিত্রঃ নেতা, তার চামচা ও প্রেমিক
ইতোমধ্যে নেতার কানে প্রেমিকের কাজের খবর পৌঁছে গেছে। নেতা মহা খুশি। নেতা প্রেমিককে দেখে বাহবা দেয়া শুরু করে। বুকে টেনে নিতে চায়। নেতার চারপাশের লোকেরা সবাই তাকে দেখে খুশিতে দাঁড়িয়ে যায়। প্রেমিকের চোখমুখে প্রতিশোধের আগুন, তার চোখ বড় বড়। ড্রয়ার থেকে টাকার বান্ডেল বের করতে ঘুরে দাঁড়ায় নেতা। হঠাৎ প্রেমিক তার চাদরের নিচ থেকে বোতল ভরা কেরোসিন নেতার গায়ে ছিটিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে দিয়াশলাই বের করে আগুন ধরিয়ে ছুড়ে দেয় নেতার দিকে। নেতার পাঞ্জাবিতে আগুন জ্বলে ওঠে। মাটিতে পড়ে নেতা গড়াগড়ি খেতে থাকে। সবাই চারপাশে হতবম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে। নেতার আর্তচিৎকারে মায়া হয় প্রেমিকের। ক্ষমা করে দেবার মনোভাব তৈরি হয় তার মধ্যে। প্যান্টের জিপার খুলে নেতার শরীরে প্রস্রাব করে আগুন নিভাতে শুরু করে সে। তাকে দেখে সবাই চারদিক থেকে ঘিরে নেতার শরীরে প্রস্রাব করতে থাকে। আগুন নিভে যায়।  নেতা বেঁচে যায়। এরপর নেতা উঠে দাঁড়িয়ে প্রেমিকের পায়ে পড়ে ক্ষমা চায়। দেশবাসীর কাছে ক্ষমাচায় তার পিছনের সব কৃতকর্মের জন্য।
রচনাঃ নিথর মাহবুব

আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে নেতার গায়ে